মাদারীপুরে কিশোর গ্যাংএর সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার প্রবাসী প্রান্ত হাওলাদারের (২৮) নিঃশর্ত মুক্তি এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে মাদারীপুর প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে প্রান্ত হাওলাদারের স্বজনসহ স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন। এতে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার সময় প্রান্ত হাওলাদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে একজন নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, কিশোর গ্যাংএর সঙ্গে প্রান্ত হাওলাদারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। সে একজন গ্রীস প্রবাসী। গরিব দুঃখী মানুষকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে। এলাকার একদল উশৃংখল চক্র তাকে মামলায় ফাঁসিয়েছে , যা অত্যন্ত দুঃখজনক ।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন প্রান্ত হাওলাদারের মা আসমা বেগম। তিনি বলেন, “আমার ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ। দীর্ঘদিন সে প্রবাসে ছিল এবং মাসখানেক আগে দেশে এসেছে। মাত্র এক মাস আগে আমার ছেলে বিয়ে করেছে। ঘটনার সময় সে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিল। কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই।”
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে প্রান্ত হাওলাদারের নিঃশর্ত মুক্তি এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন মানববন্ধনকারীরা।
প্রান্ত হাওলাদার মাদারীপুর পৌর শহরের লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার নুরু হাওলাদারের ছেলে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মাদারীপুর) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই এলাকায় কয়েকদিন পর পরে কিশোর গ্যাংএর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। “নির্দোষ কাউকে হয়রানি করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মাদারীপুর পৌর শহরের বটতলা লঞ্চঘাট ও সবুজবাগসহ কয়েকটি এলাকার কিশোরদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৭৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় প্রান্ত হাওলাদারকে দুই নম্বর আসামি করা হয়।

